
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা মামলার দুই আসামি সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে দুই দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তবে কী সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ৮ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশের মতিঝিল আঞ্চলিক টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানান।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আসামিরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জোগান দিয়েছেন। জানা গেছে, সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা এই সিন্ডিকেটের হোতা ফিলিপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
গোয়েন্দা সূত্র ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই মামলার প্রধান পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। সিবিয়ন ও সঞ্জয় এই পলায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসামিরা কৌশলে নিজেদের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে গত ১৫ ডিসেম্বর সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি আটক করার পর ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রথম দফায় ৩ দিন এবং দ্বিতীয় দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আজ তাদের কারাগারে পাঠানো হলো। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আসামিদের আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় চলন্ত রিকশায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।